0 ITEMS
00 ITEMS
শিশুদের সঙ্গে বাবা-মায়ের পারিবারিক আনন্দঘন সময় কাটানো একান্ত প্রয়োজন। তাতে পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন মজবুত হবে, ছোটবেলার সুখ স্মৃতিও থাকবে অনেক। তবে অনেক ক্ষেত্রেই আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারি না কিভাবে সন্তানের সাথে মেশা উচিত বা সময় দেয়া উচিত। শিশুকে সময় দেবার ক্ষেত্রে এভাবে ভাবা যেতে পারে -
আপনার শিশুকে নির্দ্বিধায় কথা বলার সুযোগ দিন। তাদেরকে খোলামেলা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন বিভিন্ন বিষয়ে এবং তারা ইতোমধ্যে কতটা জানে তা বোঝার চেষ্টা করুন।
সর্বদা সততার সঙ্গে তাদের প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনার সন্তানের বয়স কত এবং তারা কতটা বুঝতে পারবে সে সম্পর্কে ভাবুন, সেভাবে তার জানার ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিন। আমরা অনেক সময়ই শিশুদেরকে ছোট ভেবে অনেক কিছু গোপন করি বা চাই তারা না জানুক বা পরে জানুক। কিন্তু এইসব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিশু তার জানার ইচ্ছাকে দমন করতে বিকল্প পন্থার দ্বারস্থ হয় যাতে হিতে বিপরীত হতে পারে।
আপনার শিশু আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত থাকতে পারে। তারা কেমন অনুভব করছে তা প্রকাশ করার সুযোগ করে দিন এবং আপনি যে তাদের পাশে আছেন সেটা তাদেরকে নিশ্চিত করুন।
কতটুকু সময় দিলেন এটা বড় ব্যাপার না, লক্ষ্য রাখুন যেন তাদের সঙ্গে একটা মানসম্মত সময় কাটাতে পারেন। সন্তানের মনের অবস্থা জানার জন্য সময় দেওয়ার বিকল্প নেই।
সব বেলা না হলেও চেষ্টা করুন রাতের খাবারটা পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে খেতে। সবার সঙ্গে খাবারের টেবিলে সময় দিলে সম্পর্কের উন্নতি হয়।
একসঙ্গে বসে ভালো সময় কাটানোর জন্য তাদের পছন্দের কিছু করুন। পরিবারের সবাই বা অনেকেই মিলে খেলা যায় এমন বিভিন্ন ধরণের খেলনা এক্ষেত্রে হতে পারে চমৎকার সমাধান। সন্তানের পছন্দের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে সময় দিন। আপনি যদি নিজেকে সন্তানের পছন্দের খেলায় নিযুক্ত করতে পারেন, তাহলে দেখবেন সন্তান আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে। তাদের এই অনুভূতিটা দিন যে আপনি তার ভাললাগাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কৈশোরের প্রথম পর্যায়ে সন্তানদের মনের পরিবর্তন সঙ্গে সঙ্গে তাদের পছন্দের ধরন পাল্টাতে থাকে। এ সময় তারা অনেক কিছু শিখতে চায়। শেখার ক্ষেত্রে বাধা না দেওয়াই ভালো। বরং বিভিন্ন কিছুতে ব্যস্ত থাকলে বয়ঃসন্ধির কঠিন সময়টা পার করা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
সন্তানদের জন্য কিছু সময় বের করে নিন। তারপর তাদের নিয়ে বেড়িয়ে আসুন। প্রকৃতির কাছাকাছি হলেই বেশি ভালো। সেই সময়টা যেন খুবই আন্তরিক হয় সেটা খেয়াল রাখা দরকার। যতোটা সম্ভব কাজের আলাপ দূরে রাখলেই ভালো। তাদের চিন্তার বিকাশ ঘটার সুযোগ দিন।
সন্তানকে জড়িয়ে ধরুন। সে যে আপনার জীবনে বিশেষ একজন...এই অনুভূতি দিন। স্নেহস্পর্শ খুবই জরুরি বিষয়। বিশেষত, শিশুরা যদি চিন্তিত বা কোনও কারণে হতাশ থাকে, তাহলে আলিঙ্গনই সবথেকে কার্যকরী পথ হবে তাদের জন্য।
সন্তানকে হোমওয়ার্ক বা স্কুলের প্রজেক্ট করতে সাহায্য করুন।
আমরা অনেক সময়ই ব্যস্ততা ঢাকতে শুধু খেলনা কিনে দিয়ে শিশুকে ব্যস্ত রাখতে চাই তবে মনে রাখা দরকার যে, শিশু চায় সময়। কমই হোক তবু রোজ যেন কিছুটা সময় সে পায় সেটা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
Published On: 01 Jan, 2026
© 2026 -SAMUHO.com. All Rights Reserved.