0 ITEMS
00 ITEMS
আমাদের ছেলে-মেয়ে দুজনকেই আমরা কিন্তু আর্ট শেখানোর কোনো চেষ্টা করিনি কখনোই। স্বাভাবিক আঁকা-আঁকি ওরা নিজেদের মতো করেই শিখেছে। স্কুলেও ওদেরকে প্রায় সময় কাজ দেয় নিজের মতো আঁকার। গল্প বা ছড়া/কবিতার/গানের ছবি আঁকার। প্রথম দিকে সেগুলো খুব একটা কিছু ছিলো না। দাগ টেনে-টুনে নিজেরা কি সব আঁকিবুঁকি করতো তারপর সুন্দর সব নাম দিয়ে দিতো। তারপর একসময় দেখলাম শিখেই গেছে সুন্দর ছবি আঁকা।
আদিয়ানের বেলায় স্কুল থেকে সব্যসাচী হাজরার 'রঙ তুলিতে ছোপছাপ' বইটা কিনতে বলে। এটা দেখে আমি বুঝলাম এইসব আঁকা-আঁকি শেখানোর পিছনে আমরা যে ছুটিনি সেটা ভুল ছিলো না মোটেও। ওনার বই থেকে কিছু কথা তুলে দিলাম। খুবই সামান্য কিছু। এভাবে পুরো বইতে উনি শিশুকে আঁকা শেখানোর ব্যাপারে বাবা-মাদের ভূমিকা ঠিক কেমন হওয়া উচিত সেটা বলেছেন। এছাড়াও রঙের ধারণা, শিশুর কল্পনাপ্রবণ মনকে সচল রেখে আঁকায় উৎসাহ দেবার নানা কৌশলও আছে এতে।
এটা মূলত বাবা-মায়ের জন্য যেহেতু প্রাথমিক আঁকা-আঁকি বাড়িতেই শুরু হয় বাবা-মায়ের তত্ত্বাবধানে। ছোট শিশু আছে এমন বাবা-মাদের সংগ্রহ করার মতো আরেকটা অসাধারণ বই এটা।
সব্যসাচী হাজরা-র কিছু কথাঃ
বইটির ভূমিকায় তিনি বলেছেন "উন্নত শিক্ষা অবকাঠামোতে আঁকা-আঁকির শিশুতোষ পদ্ধতি ও চর্চার বিষয়টি অত্যন্ত মনোযোগ পেয়ে থাকে। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এ সংক্রান্ত অনুশীলনগুলো করা হয়। ফলে এ বিষয়ক নমুনা, পদ্ধতিগত আলোচনা, গবেষণা, গ্রন্থ ও আন্তর্জালিক উপাদান ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষায় দুর্লভ নয়। অগ্রসর অভিভাবকরা সহজেই এগুলো জানতে ও চর্চা করতে পারেন। যারা এই বিষয়গুলোর সাথে একেবারেই সংশ্লিষ্ট নন, আন্তর্জালিক বা আন্তর্জাতিক গ্রন্থ সংগ্রহে স্বচ্ছন্দ নন, তাদের জন্য ‘রঙ তুলিতে ছোপছাপ' কিছুটা সহায়ক হতে পারে। এখানে আলোচিত কৌশলগুলো কেবল নমুনা ধরে নেওয়াই সঙ্গত। এর বাইরে শিশু নিজেই আঁকা-আঁকির বিচিত্র ধারণা ও প্রকাশ ঘটাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে । শিশুচিত্তের সহজাত শিল্পবোধ ও প্রকাশকে এই বইয়ের পরিসরে আটকে রাখা মোটেই উদ্দেশ্য নয়।"
এরপর আঁকা-আঁকি প্রাথমিক ধারণায় তিনি বলেছেন,
"সে হোক তার জীবনের প্রথম জাদুকর। হাতের তুলিতে জন্ম দিক শতবর্ণ বিচিত্র ফুল। স্বপ্নের সব ডানা মেলে ধরে উড়ে যাক হাতের ঘুড়ি, অগণিত প্রজাপতি, অদ্ভুতুড়ে বেড়ালছানারা। আমাদের চেনা প্রকৃতি, গতানুগতিক পৃথিবী তার বর্ণময় কল্পনায় আশ্চর্য কোমলতায় অবিরাম ফুটে উঠতে চায় ঘরের দেয়ালে, খবরের পত্রিকায়, ফেলে দেওয়া কাগজে, খাতায়, পর্দায়, কোথায় নয়। শিশুরাই স্বপ্নময়। শিশুমাত্রই নিবিড় সৃষ্টিশীল। কিন্তু সেই শিল্পিত ভুবনে প্রায়শই আমাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ, অনধিকারচর্চা। তার শিল্পীমনের অতলে ডুব দিয়ে দেখার মতো ডুবুরি নই বলেই আমরা তাকে আঁকতে শেখাই, খুঁত-নিখুঁতের বিচারে বসি। পেঁপে কলা আম আর মেকি দৃশ্যের অত্যাচারে অনিন্দ্য রেখা-রঙের জাদুকরটি কখন পালিয়ে যায় ।
শিশুকে শেখাতে নেই। তার কাছে আমাদের শিখবার আছে অনেক কিছু।
শিশুদের ছবি আঁকা কোনো শেখার বা নিয়মের মধ্যে পড়ে না। শিশু তার আনন্দে, সহজাত প্রবৃত্তি থেকেই ছবি আঁকবে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাগজ, রঙ ব্যবহার করবে।
শিশুর বয়স ও গ্রহণ করার ক্ষমতা বিবেচনা করে বড়রা শুধু সাহায্য করতে পারেন। শিশুর ভালো লাগা এবং পছন্দই এখানে প্রধান । শিশু কোন বয়সে, কী রঙ, কী বিষয়বস্তু বা কোন মাধ্যমে কাজ করবে তার কোনো বাঁধা-ধরা নিয়ম নেই। বয়স বুঝে আঁকার সরঞ্জামগুলো শুধু তাকে দিতে হবে। শিশুই ঠিক করুক, কী দিয়ে, কীভাবে কেমন ছবি আঁকবে ।
ডান বা বাম যে কোনো হাত দিয়েই আঁকতে পারে। হাতের আদল অনুযায়ী প্রাথমিক অবস্থায় শিশু হাত মুঠো করে কলম ধরতেই সহজ বোধ করে । বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাত ও আঙুলের গঠনে পরিবর্তন আসে এবং শিশুর হাতও ধীরে ধীরে আঁকার ও লেখার মতো করে কলম, পেনসিল বা তুলি ধরতে শেখে । হাত দিয়ে ধরার এই ধাপগুলো অনুসরণ করা জরুরি ।
শুরুর অবস্থায় মোম রঙ, প্যাস্টেল রঙ অথবা মোটা রঙপেনসিল দেওয়াই ভালো। সুচালো, কাগজে সহজে দাগ ফেলে না এমন কিছু তার উৎসাহ কমিয়ে দেবে। বারবার একই রঙ ব্যবহার করতে দিলেও একঘেয়েমি চলে আসতে পারে।
বিভিন্ন আকারের অফসেট কাগজ, কার্টিজ কাগজ, বা অন্য যে কোনো কাগজ, বাঁধাই করা থাকলে ভালো হয়।
মেঝেতে বসে আঁকলে ভালো হয়। ঘরে, বারান্দায়, জানালার পাশে, ছাদে, সম্ভব হলে বাইরে বসে। আঁকা-আঁকির পর সরঞ্জাম শিশুকে দিয়ে গোছানোর অভ্যাস করানো জরুরি।"
এমনই সুন্দর সব কথা এবং কৌশল বইটিতে আছে। গতানুগতিক আঁকা শেখার বইয়ের মতো কোনোভাবেই নয়।
(Seema Zaman, Owner)
Published On: 31 Dec, 2025
© 2026 -SAMUHO.com. All Rights Reserved.